
ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি—
এক ভাইয়ের প্রশ্নঃ আমরা অনেকেই কনডম ইউজ করি, স্ত্রী’কে পিল খাওয়ায়, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ করে থাকি। এছাড়া জরায়ু কেটে ফেলা, খাসি করার মাধ্যমে স্থায়ী পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকি। এখন আপনি আমাকে ক্লিয়ার করবেন, কোন পদ্ধতিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ জায়েজ এবং হারাম?
উত্তরঃ ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিসমূহঃ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
বর্তমান সমাজে জন্মনিয়ন্ত্রণের ২টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।
১) স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ
━━━━━━━━━━━━
যেমন— জরায়ু কেটে ফেলা, খাসি করা ইত্যাদি।
এই পদ্ধতি নারী পুরুষ কারো জন্যই জায়েয নেই। তবে যদি নারীর জরায়ু কাটা না হলে নারীর প্রাণনাশ, জরায়ু ক্যানসার বা বড় কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভবনা থাকে এবং কোন বিশেষজ্ঞ মুসলিম ডাক্তার জরায়ু কেটে ফেলার পরামর্শ দেন, তাহলে এ অবস্থায় জরায়ু কেটে ফেলা জায়েয হবে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে জিহাদে অংশ নিতাম। কিন্তু আমাদের কোনো কিছু ছিল না। সুতরাং আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বললাম, আমরা কি খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদের খাসি হতে নিষেধ করলেন এবং কোনো মহিলার সঙ্গে একখানা কাপড়ের বিনিময়ে হলেও শাদী করার অনুমতি দিলেন এবং আমাদের এই আয়াত পাঠ করে শোনালেন, হে মুমিনরা! আল্লাহ যে পবিত্র জিনিসগুলো তোমাদের জন্য হালাল করেছেন তোমরা তা হারাম কোরো না এবং সীমা লঙ্ঘন কোরো না। আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (বুখারি, হাদিস : ৪৭০৯)
২) অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ
━━━━━━━━━━━━━
যেমন— জন্ম নিরোধক ট্যাবলেট, কনডম,
এবং ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে জন্ম বিরতিকরণ।
এ পদ্ধতি অবলম্বনের শরয়ী বিধান যথাক্রমেঃ
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
১. যদি ভরণপোষণ বা খাদ্য সংকটের ভয়ে করে, তাহলে হারাম।
২. যদি সামাজিকতা, কর্মব্যস্ততা বা সন্তান লালন-পালনের ঝামেলার কারণে করে, তাহলে মাকরুহ।
৩. আর যদি শরিয়ত কোনো ওযর থাকে; যেমন: কোলের শিশুর প্রতিপালন, দুধের শিশুর দুধ কমে যাওয়া, স্ত্রীর দুর্বলতা বা সফরে থাকা ইত্যাদি কারণে অস্থায়ী ভাবে গর্বধারণ থেকে বিরত থাকার জন্য অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহন করতে কোন সমস্যা নেই।
মৌলিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের ৩টি পদ্ধতি রয়েছে—
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১) স্থায়ী পদ্ধতিঃ
━━━━━━━━━━
যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ অবৈধ/ হারাম।
আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (র.)–
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন: و هو محرم بالاتفاق অথাৎ “স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন সর্বসম্মতক্রমে হারাম”। (উমদাতুল ক্বারীঃ ১৪/১৪ পৃঃ)
২) অস্থায়ী পদ্ধতিঃ
━━━━━━━━━━━
যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউ প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না। যেমন : আযল করা(সহবাসের চরম পুলকের মুহুর্তে স্ত্রীর যোনীর বাহিরে বীর্যপাত ঘটানো), কন্ডোম, জেলি, ক্রিম, ফোম, ডুশ ইত্যাদি ব্যবহার করা, পিল খাওয়া এ পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে:
ক. দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া, যাতে প্রথম সন্তানের লালন-পালন, পরিচর্যা ঠিকমত হয়।
খ. কোন কারণে মহিলার বাচ্চা লালন-পালনের সামর্থ না থাকলে।
গ. বিজ্ঞ ডাঃ যদি এই কথা বলে, মহিলা অসুস্থ ও দূর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপদজনক হবে।
▪️হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন আমরা রাসূল (ﷺ) এর যুগে আযল(যা জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটা পুরনো ও অস্থায়ী পদ্ধতি) করতাম। (বুখারী ২/৭৮৪)
— যদি দারিদ্র্যতার ভয় না থাকে।
— বাসস্থানের ভয় না থাকে।
৩) মেয়াদী ব্যবস্থাঃ
━━━━━━━━━━━
নির্ধারিত মেয়াদের জন্য ইনজেকশন, নিরাপদ কাল মেলে মেনে চলা এবং
আই ইউ ডি(IUD) ব্যবহার করা ইত্যাদি। এমন করা মাকরূহে তাহরীমী। কেউ কেউ এটাকে হারাম বলে থাকেন।
এখানে যে পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেগুলো বাদে সবগুলোই যেগুলো সাময়িক ভাবে জন্মবিরতিকরণে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো ব্যবহার করা জায়েজ।
💌 এই পেইজটি আপনার মহা উপকারের সাথী। একবার হলেও ঘুরে আসবেন এবং শেখার উদ্দেশ্যে Follow দিয়ে রাখবেন ইংশাআল্লাহ্।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
📌 পোস্ট-টি সদকায়ে জারিয়া এবং ইসলাম প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করে অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হোন। এই পোস্ট আপনার আখেরাতের কঠিন মুসিবাতের সময় নাজাতের ওসিলা হয়ে যাক, আমিন🤲
Somoy News 24 – Most Popular Bangla News The Fastest Growing Bangla News Portal Titled Somoy News 24 Offers To Know Latest National And Local Stories.