Tuesday , September 8 2026

মুতা বিয়ে কি? এটা হালাল না হারাম ইসলাম…see more

মুতা বিয়ে!❌

আমাদের বাসা কুষ্টিয়া। পাবনা রূপপুর পার*মানবিক কেন্দ্রের পাশের। দূরত্ব শুধু লালনশাহ ব্রিজ।

 

আপনারা জানেন এখানে অনেক রাশিয়ানরা থাকে।

সমস্যা হলো- এখানে রাশিয়ানরা পাবনার রূপপুর আর কুষ্টিয়ার কিছু অঞ্চলে চুক্তিভিত্তিক অর্থাৎ কন্ট্রাক বিয়ে করে। যেমন: সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে শুরু করে ৩ বছর পর্যন্ত।

 

কন্ট্রাক বিয়ের বিনিময়ে রাশিয়ানরা ৫-১০ এমনকি ২০ লক্ষ পর্যন্ত টাকা দেয়। বিয়ে গোপনই থাকে। কিন্তু বিষয়টা ভেতরে ভেতরে অনেকেই জানে।

 

আমার বড় আপা পাবনা একটা কলেজে হলে থেকে পড়াশোনা করে। আমার বোন আগে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি আসতো, শুক্রবার বাড়ি থেকে শনিবার আবার চলে যেতো।

 

২ মাস যাবত শুক্রবার আর না আসায় আমার মা বকাঝকা করে।

রাগ করার পর ২বার বাড়ি আসছে তাও রবিবার।

 

এই মাসে আমার আপার শারীরিক অনেক পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আমার এবং আমার মা’য়ের নজরে আসলে আমরা খোঁজ নিতে থাকি এবং প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পাই এবং আমরা বাড়িতে এনে অনেক বলার পর স্বীকার করছে ৯ লক্ষ টাকার বিনিময় ৫ মাসের কন্ট্রাক বিয়ে করছে। শুক্রবার আর শনিবার ঐ লোকের ছুটি, যার ফলে উনার সাথে উনার বাসায় থাকে।

 

তারপর আপাকে মা অনেক মা*রধর করেন। কিন্তু সম্মানের ভয়ে এসব গোপন রেখেছেন।

 

▬▬▬◄❖►▬▬▬

 

লা হাওলা ওয়ালা কু ওয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ।

এটা নিয়ে সবাই আওয়াজ তুলুন।

 

আর কুষ্টিয়ার ভাইয়েরা স্থানীয় উলামায়ে কেরামগণের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত একটা ব্যাবস্থা নিন।

 

এখনি এই ফিতনাহ না থামালে আগামীতে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।

 

মুতা বিয়ে (সময়ে সীমিত বিয়ে) ইসলামে হারাম।

হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খায়বারের যুদ্ধে ‘মুতা বিয়ে’কে নিষিদ্ধ করেছেন।(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৪০৬)

 

❑ তাই যদি কোনো বিয়ে এমন হয়:

৫ মাস পর বিচ্ছেদ হবে মূল উদ্দেশ্য টাকা-পয়সা পাওয়া।

স্ত্রীকে ব্যবহার করা হয় “সময়িক সঙ্গিনী” হিসেবে, সামাজিকভাবে গোপন রাখা হয়। তাহলে এটি ইসলামে জায়েয নয়, বরং ফিতনা, অশ্লীলতা এবং হারাম কর্মে পরিণত হয়।

 

▬▬▬◄❖►▬▬▬

 

❖ ইসলাম কি বলে এ মুতা বিয়ের ক্ষেত্রে?

❖ মুতা বিয়ে কি ইসলামে বৈধ?

❖ চলুন শরীয়তের আলোকে বিস্তারিত জানা যাক।

 

মুতা’ বিয়ে একটি স্বল্প সময়ের বিয়ের নাম। অর্থাৎ কোন নারী ও পুরুষ অল্প কিছু সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ বিয়ে করতে পারে। তবে এই সময় সম্পর্কে কোন সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সময় ধরা বাধা নেই।

 

ইসলামে এক সময় মুতা বিয়ে জায়েজ ছিলো। কিন্তু পরে সেটা পুরাপুরিভাবে রহিত করা হয়। মুতা বিয়ে রহিত করার হাদিসগুলো হলো—

 

❑ ইবনু আবূ আমর‌ (রা.) বলেন,

ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিরুপায় অবস্থায় তার (মুতা বিয়ের) অনুমতি ছিল। (যেমন: নিরুপায় অবস্থায়) মৃত জীব, রক্ত ও শূকরের (গোশ্‌ত ভক্ষণের) ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ‌ তার দীনকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করলেন এবং তা নিষিদ্ধ করলেন।

 

❑ ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন,

রাবী’ ইবনু সাব‌রাহ‌ আল জুহানী আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে আমি দুটি লাল চাদরের বিনিময়ে আমির গোত্রের একটি স্ত্রীলোকের সাথে মুতা‌ করেছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মুতা করতে নিষেধ করেন।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩২০)

 

❑ আলী ইবনু আবূ তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত,

খাইবারের যুদ্ধের দিন নারীদের সাথে মুতা বিয়ে করতে ও গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।(জামে তিরমিজি, হাদিস নং ১১২১)

 

❑ আবু যুবায়ের (রহ.) থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) কে বলতে শুনেছি, ‘আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা ময়দার বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বকর রা. এর যুগে মতা বিয়ে করতাম। শেষ পর্যন্ত ওমর রা. আমর ইবনু হুরায়স এর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩০৭)

 

❑ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওত্বাস যুদ্ধের বছর তিন দিনের জন্য মুতা বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩০৯)

 

❑ সাবরাহ আল জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত,

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের স্ত্রীলোকদের সাথে মুতা বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তা হারাম করেছেন কিয়ামাতের দিন পর্যন্ত। অতএব যার নিকট এ ধরনের বিয়ের সূত্রে কোন স্ত্রীলোক আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছ তা কেড়ে নিও না ।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩১৩)

 

❑ নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতা‌(বিবাহ) করতে নিষেধ করেছেন।(সহিহ মুসলিম,হাদিস নং ৩৩১৭)

 

❑ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতা বিয়ে নিষিদ্ধ করেছেন ও বলেছেন, সাবধান! আজকের এ দিন থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত মুতা বিয়ে হারাম। যে কেউ (ইতোপূর্বে) মুতা বাবদ যা কিছু দিয়েছে, সে যেন তা ফেরত না দেন।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩২১)

 

❑ আলী (রা.) থেকে বর্ণিত,

তিনি শুনতে পেলেন যে, ইবনু আব্বাস (রা.) নারীদের সাথে মুতার ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। আলী (রা.) বললেন, থামো, হে ইবনু আব্বাস! কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন মুতা ও গৃহপালিত গাধার গোশ্ত নিষিদ্ধ করেছেন ।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩২৫)

 

❑ উপরোক্ত বিশুদ্ধ

তথ্য থেকেআমরা জানতে পারলাম,

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞

১। মুতা বিয়ে প্রথমে বৈধ থাকলেও পড়ে সেটা কিয়ামত পর্যন্ত নিষেধ করা হয়।

২। ইসলামে বিয়ের নীতি আছে। সে নীতির আলোকে বিয়ে করবে।

৩। মুতা বিয়ে হারাম।

৪। মুতা বিয়ে হালাল না।