Sunday , September 6 2026

গায়রত কী?গায়রত হলো এমন এক… See more

 

 

গায়রত (غيرة) হলো এমন এক প্রশংসনীয় ঈমানি গুণ, যার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার নিজের, তার পরিবার ও তার সম্মানের হেফাজত করে এবং অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও হারাম বিষয়কে অপছন্দ করে।

 

রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“আল্লাহ গায়রতবান, আর মুমিনও গায়রতবান। আল্লাহর গায়রত হলো, বান্দা তাঁর নিষিদ্ধকৃত কাজে লিপ্ত হলে তিনি তা অপছন্দ করেন।”

— সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম

একজন মুমিন পুরুষ তার স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের নারীদের সম্মান ও পর্দার ব্যাপারে সচেতন থাকবে। একইভাবে একজন মুমিন নারীও নিজের মর্যাদা, লজ্জাশীলতা ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবন অতিরিক্তভাবে প্রকাশ করা অনেক ক্ষেত্রে ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন মুসলিমের উচিত নিজের ও পরিবারের সম্মান রক্ষা করা এবং এমন কোনো কাজ না করা, যা পর্দা, শালীনতা বা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।

তবে গায়রত মানে কঠোরতা, রূঢ়তা বা অযৌক্তিক সন্দেহ নয়। বরং গায়রত হলো আল্লাহর বিধানের প্রতি সম্মান, নিজের পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার আন্তরিক প্রচেষ্টা।

রসূলুল্লাহ ﷺ এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন, যে তার পরিবারের মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও পাপাচারকে প্রশ্রয় দেয়। তাই প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর উচিত ঈমান, তাকওয়া, পর্দা ও শালীনতার গুরুত্ব অনুধাবন করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আর দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।”

— সূরা হাদীদ, আয়াত ২০

আমাদের উচিত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী চাকচিক্যের পেছনে না ছুটে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া এবং নিজেদের পরিবারকে ইসলামের আলোকে গড়ে তোলা।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে সঠিকভাবে দ্বীন বুঝার, তার ওপর আমল করার এবং নিজেদের সম্মান ও ঈমান রক্ষা করার তাওফীক দান করুন। আমীন। #ইসলামিক_শিক্ষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *