Monday , September 7 2026

এক রাতে জন্য হি’ল্লা বিয়ে …see more

 

 

সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ সম্পর্কে কিছু কথা

 

 

 

বর্তমান সমাজে “হিল্লা বিয়ে” নামে একটি বিষয় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই এ বিষয়ে সঠিক ইসলামী বিধান না জেনে নানা ধরনের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।

প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার—কুরআন ও সহীহ হাদীসে “এক রাতের জন্য বিয়ে” নামে কোনো বিধান নেই। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ একটি পবিত্র ও স্থায়ী সম্পর্ক; এটি কোনো নাটক, চুক্তিভিত্তিক খেলা বা সাময়িক ব্যবস্থা নয়।

তিন তালাকের পর কী হয়?

যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে চূড়ান্তভাবে (তিন তালাক) তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে সেই স্ত্রী তার জন্য আর বৈধ থাকে না।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

«”অতঃপর যদি সে তাকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।”

— সূরা আল-বাকারা ২:২৩০»

অর্থাৎ, তিন তালাকের পর আগের স্বামী পুনরায় তাকে বিয়ে করতে চাইলে শুধু ইচ্ছা করলেই হবে না। এর মধ্যে একটি স্বাভাবিক ও প্রকৃত বিবাহ সংঘটিত হতে হবে।

তাহলে ‘হালালা’ বলতে কী বোঝায়?

অনেকেই মনে করেন, হালালা মানেই কাউকে এক রাতের জন্য বিয়ে দেওয়া। আসলে এটি একটি বড় ভুল ধারণা।

প্রকৃত বিষয় হলো—

একজন নারী তিন তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর ইদ্দত শেষ করে যদি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করেন, এরপর কোনো কারণে সেই দ্বিতীয় সংসার ভেঙে যায়—তালাক, খুলা বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে—তাহলে ইদ্দত শেষে তিনি চাইলে আগের স্বামীসহ অন্য যেকোনো বৈধ পাত্রকে বিয়ে করতে পারেন।

এই অবস্থাকেই ফিকহের পরিভাষায় “হালাল হওয়া” বলা হয়।

সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ কী?

আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়—

প্রথম স্বামী তিন তালাক দেওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে দেওয়া হয়। শুরু থেকেই শর্ত থাকে যে, তিনি এক বা দুই রাত পর তালাক দিয়ে দেবেন, যাতে নারীটি আবার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারেন।

এ ধরনের পূর্ব-পরিকল্পিত বিয়েকেই সাধারণভাবে “হিল্লা বিয়ে” বলা হয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান

এ ধরনের পরিকল্পিত বিয়ে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গুনাহের কাজ।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

«”আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন হালালকারী, যার জন্য হালাল করা হয় এবং যাকে হালাল করা হয়—তাদের সকলকে।”

— মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা»

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই কঠোর সতর্কবাণী থেকে বোঝা যায় যে, বিবাহকে সাময়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক অপরাধ।

তাহলে এমন বিয়ের পর প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া কি বৈধ হয়?

এ বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অনেক আলেমের মতে, এ ধরনের কাজ গুনাহ ও লানতযোগ্য হলেও যদি শরিয়তের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে বৈধভাবে বিবাহ সংঘটিত হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেন, তাহলে নারীটি প্রথম স্বামীর জন্য পুনরায় বৈধ হয়ে যেতে পারেন।

তবে সকল আলেম এ বিষয়ে একমত নন। তাই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মুফতির কাছে মাসআলা জেনে নেওয়া উচিত।

সন্তান কি বৈধ হবে?

যদি বিবাহ শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে জন্মগ্রহণকারী সন্তান বৈধ সন্তান হিসেবেই গণ্য হবে। সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভুলের দায় বর্তাবে না।

গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

আমাদের উচিত বিবাহ ও তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে খেলা বা আবেগের বিষয় না বানানো।

অনেক পরিবার ক্ষণিকের রাগ, অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, যার পরিণতি অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়।

তাই—

✔ তালাক দেওয়ার আগে চিন্তা করুন।

✔ শরিয়তের বিধান জানুন।

✔ আলেমদের পরামর্শ নিন।

✔ বিবাহকে পবিত্র আমানত হিসেবে মূল্যায়ন করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীন বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন। #fouryou

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *